ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বানারীপাড়ার সেই ভূমি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-০১ ২২:৫৭:৪৯
চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বানারীপাড়ার সেই ভূমি কর্মকর্তা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বানারীপাড়ার সেই ভূমি কর্মকর্তা
আছমা আক্তারকে অপসারণ রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক :


সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাজাপ্রাপ্ত আসামী আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে অপসারন করা হয়েছে। জানা গেছে, বিভাগীয় মামলার শুনানী শেষে অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দুনীতি বন্ধ করতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আছমা আক্তার অন্যায়ভাবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছরং ও জম্বুদীপ মৌজার এস.এ খতিয়ান রেকর্ড সংশোধন করেন। উল্লেখতি কাজের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার না হওয়া সত্বেও তিনি এমন অনিমের সাথে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি আছমা আক্তার লিখিতভাবে স্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার শুনানীতে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) এর ২০১৮ এর মিধিমালা অনুসারে আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে অপসারন করা হয়েছে।গত রবিবার শুনানী শেষে বিভাগীয় কমিশনার উল্লেখিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বিষয়টি বুধবার দুপুরের পর প্রকাশ্যে আসে।


বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ জানান, বিভাগীয় মামলার পর শুনানী শেষে ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় উল্লেখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এমন পদক্ষেপে ভবিষ্যতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ ধরনের অনিয়মের সাথে জড়ানো থেকে বিরত থাকবে বলেও তিনি মনে করছেন। এর আগে আদালতের রায়ের চার মাস পর বাদীর অভিযোগ পেয়ে ৮ মাসের সাজা ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রাপ্ত আসামি উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

তিনি ওই মামলার কথা গোপন রেখে নিয়মিত অফিস করার পাশাপাশি বেতন-ভাতা নিতেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন ওই মামলার বাদী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাক্তার মো. খোরশেদ আলম সেলিম। গত ৩ মার্চ তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। ফলে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন সাজাপ্রাপ্ত আছমা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। প্রসঙ্গত,২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ডাঃ খোরশেদ আলম সেলিম বাদী হয়ে বিশারকান্দি ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে বরিশাল প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অর্থ আত্মসাৎ ও চেক ডিজনার মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর থেকে আছমা আক্তার আদালতে হাজির না হয়ে পলাতক থাকা অবস্থায় নিয়মিত অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় আদালতের বিচারক ওই মামলায় আছমাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ করেন। আছমা আক্তার আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই বছরের ৬ নভেম্বর আদালতের বিচারক ওই মামলায় আছমা আক্তারের বিরুদ্ধে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। ###

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ